সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান

মব সন্ত্রাস বন্ধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ

  • আপলোড সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৪:৫৩:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৩-২০২৬ ০৪:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন
মব সন্ত্রাস বন্ধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন::
সম্প্রতি আবারো মব সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। দেশের সরকার, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দল সকলেই মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। কিন্তু তারপরও মব সন্ত্রাস থামানো যাচ্ছে না। আমাদের দেশে জনরোষ ও মবকে একসাথে মিলিয়ে দেখা হয়। আমরা মবকে তো মব বলিই, একই সাথে জনারোষকেও মব বলে চালিয়ে দেই। ফলে কোনটা জনরোষ আর কোনটা মব আলাদা করা দুরূহ হয়ে যায়। বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল তাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে মব বলে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের সহযোগী মিডিয়াগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণের ক্ষোভকে মব হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। মব ও জনরোষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা গেলে এটি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হতো। মব সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। উশৃঙ্খল জনতা নিজের ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাউকে আক্রমণ করলে, হেনস্থা করলে সেটিকে মব বলা যায়। এক্ষেত্রে এসব জনতার সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য থাকে না। তাদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি। কিন্তু জনরোষকে এককথায় বেআইনি বলা যাবে না। মানুষ যখন কোন ঘটনায় বারবার নিপীড়িত হয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে কোন কা- ঘটায় সেটাই জনরোষ। এক্ষেত্রে আইনের শাসন না থাকা কিংবা আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা কিংবা বিচার বিলম্বিত হওয়া কিংবা বিচার না হওয়া কারণ হিসেবে কাজ করে। তবে মব বা জনারোষ দুটিই সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। উভয় ক্ষেত্রেই একদল জনতার দ্বারা অন্য মানুষ বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হেনস্থা হয়, নির্যাতিত হয়। যা কারোই কাম্য হতে পারে না। কেউ নির্দেশ দিলেই বা অনুরোধ করলেই জনরোষ ও মব বন্ধ হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নাই। সবাই মিলে ঘৃণা করলেও জনরোষ ও মব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে তাও ঠিক নয়। তাহলে কিভাবে মব বা জনরোষ বন্ধ হতে পারে? মূলত সমাজে জনরোষ বা মব কালচার গড়ে ওঠে বিচারহীনতার সুযোগ নিয়ে, অথবা বিলম্বিত বিচারের সুযোগ নিয়ে। মানুষ যখন নিজে নির্যাতিত হয়ে রাষ্ট্রের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে দ্রুত ও কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিচার পায় না, তখনই নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনরোষ হ্রাস করা সম্ভব। জনগণ যদি দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সঠিক বিচার পায়, নির্মোহ বিচার পায় তাহলে জনরোষ এমনিতেই কমে যাবে। সমানাধিকার, মানবাধিকার, সুষম সুযোগ জনরোষ কমাতে ভূমিকা রাখে। সমাজে ও দেশে ঘুষ, অনিয়ম, বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকা- বৃদ্ধি পেলে জনরোষও বৃদ্ধি পায়। তাই এসব কমানোর মাধ্যমে জনরোষ কমানো যেতে পারে। কিন্তু মব কমাতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। দ্রুত ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে মব কমাতে হবে। মবকারী যেহেতু ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থসিদ্ধির আশায় অন্যকে হেনস্থা করে, পর্যদস্ত করে, আহত করে, হয়রানি করে- তাই আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগের মাধ্যমে তা দমন করতে হবে। একটি সুস্থ সুন্দর সমাজে মব বলে কিছু থাকতে পারে না। কিছু ব্যক্তি বা দল দ্বারা অন্যকে হেনস্থা করা মেনে নেয়া যায়না। তাই নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদেরকে অবশ্যই মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সেজন্য যারা মাবের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

[লেখক- প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা

জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা